মণিরামপুর (যশোর)প্রতিনিধি।। যশোরের মণিরামপুরে তালাকের পরও ছোট স্ত্রীর সাথে বসবাস করার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক সেনা সদস্য স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করায় সেনা সদস্য মাসুদুর রহমান রিপন তার প্রথম স্ত্রী সিবা খাতুনের ওপর চালান অমানুষিক নির্যাতন। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে স্বামী শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে বড় স্ত্রী সিবা খাতুনকে কয়েকদফা হত্যাচেষ্টাও চালান।
অবশেষে জীবন বাঁচাতে সিবা খাতুন দুই শিশু সন্তানসহ স্বামীর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নির্যাতনকারী সেনা সদস্য স্বামী ও তার পরিবারবর্গের নির্যাতনের হাত থেকে দুই শিশু সন্তানসহ তাকে রক্ষা করার ফরিয়াদ জানিয়েছেন বড় স্ত্রী সিবা খাতুন।
উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা খানপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমানের ছেলে মাসুদুর রহমান রিপনের সাথে শেখপাড়া খানপুর গ্রামের শেখ শামছুর রহমানের মেয়ে সিবা খাতুনের প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরই মধ্যে সেনাবাহিনীতে চাকরি পান মাসুদুর রহমান রিপন। রিপন সৈনিক পদে যোগদান করেন ২০০৮ সালের ৬ জুলাই।
২০০৯ সালের ২ জুন যশোর পৌরসভা কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন রিপন এবং সিবা। বিয়ের পর তাদের সংসার বেশ ভালই কাটছিল। ২০১২ সালে তাদের প্রথম সন্তান তামিম হোসেনের জন্ম হয়। ২০১৬ সালে দ্বিতীয় ছেলে তাসকিম হোসেনের জন্ম হয়। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালের দিকে রিপন মণিরামপুর পৌরশহরে ইয়াসমিন আক্তার নামে এক গৃহবধূর সাথে পরকীয়ায় জড়িড়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে সিবা তার স্বামীকে শুধরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
একপর্যায়ে ইয়াসমিন আক্তার তার স্বামীকে তালাক দিয়ে কাপড় বিক্রেতা মায়ের সংসারে আসেন। পরে মাসুদুর রহমান রিপন গোপনে ইয়াসমিন আক্তারকে নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন ২০১৮ সালের ১৫ মে। তাদের বিয়ের ঘটনা জানাজানি হলে সিবা খাতুন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। সিবা খাতুন জানান, অনেক চেষ্টা করেও তিনি স্বামীকে ফেরাতে পারেননি।
ফলে এ নিয়ে সামান্য কথাকাটাকাটি হলেই রিপন তার ওপর শুরু করেন অমানুষিক নির্যাতন।
তবে রিপন ও তার পিতা সিবার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিবার পিতা এবং বড়বোন শিউলি খাতুন জানান, গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করলে রিপন ও তার বাবা-মা দীর্ঘদিন ধরে সিবার ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছেন। থানার ওসি (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।